Monday, March 13, 2017

আগামী ১৫মার্চ তারিখ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন দিবস।

আগামী ১৫মার্চ তারিখ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন দিবস।
দেখি কি হয়!!!!

২০১৫ সালে আমি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে দেশের অন্যতম এক বহুজাতিক কোম্পানীর পণ্যের মোড়কে উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদ উত্তীনের তারিখ ব্যবহার না করার মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করি যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৭ ধারার অধীন দন্ডনীয় অপরাধ।
গত ২০১৫,২০১৬ এবং ২০১৭ সালে এই অভিযোগের জন্য শুনানীর জন্য বেশ কয়েকবার তারিখ নিধারণ করা হলেও প্রতিবার নানা সমস্যার কথা বলে তারা সময় নিচ্ছে। গত ১মার্চ ২০১৭ সালে শুনানীর কথা থাকলেও তারা সকালে এসে কর্তপক্ষ থেকে আবারও সময় নিয়ে যায়।
আগামীকাল ১৪ মার্চ ২০১৭ তারিখে সকাল ১১টায় আবারও শুনানীর তারিখ নিধারণ করা হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তারা তাদের পণ্য বিক্রি করে। সে পণ্যের মান রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের। তারা দাবী করে তারা বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানী এবং তাদের পণ্যের মান বিশ্বমানের তাহলে তারা কেন পণ্যের গায়ে উৎপাদন তারিখ ব্যবহার করে না?
আমি আগামীকাল সকাল ১১টায় যাব জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে শুনানীর জন্য। ক্রেতা স্বার্থ রক্ষায় আমার এই শুনানীর জন্য আল্লাহ-ই জানে আর কতদিন যেতে হবে।
২০১৫ সাল থেকে আমি শুধুই ঘুরছি আর ঘুরছি। আমার জানা এটি দেশের একমাত্র অভিযোগ | যা নিষ্পত্তি হতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে। কেন লাগছে এত সময় দয়া করে তা কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না।
শুধু জানি হারা যাবে না। আগামীকাল বিশ্বমানের পণ্য উৎপন্নকারী, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানীর বিখ্যাত কোম্পানী দেখি গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় আবার কি পদক্ষেপ নেয়। কাল সকাল ১১টা পর্যন্ত শুভ কামনা।

Saturday, February 4, 2017

নীলক্ষেত গাউছুল আযম মার্কেটের সামনের ফুটপাতের মুড়ি ভর্তা

 ঢাকায় কোথায় কি খাবার পাওয়া যায় তা নিয়ে আপনাকে জ্ঞান দেওয়ার সাহস আমি করি না। তবে বলি কি সুযোগ পেলে একবার নীলক্ষেত গাউছুল আযম মার্কেটের সামনের ফুটপাতের মুড়ি ভর্তা খেতে পারেন।
আপনার মুখে ঢাকার হাজার টাকার মুড়ি ভর্তা খাওয়ার স্বাদ লেগে আছে তা জানি । কিন্তু এখানে পাবেন অন্যরকম স্বাদ সাথে বিক্রেতার ভালবাসা।



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিন্নীর বইশ (মহিষ)।


ইদন আর বাবুল পেশা তাদের দিনমুজুর। কিন্তু বছরের এই সময়টা তারা গ্রামে গ্রামে সিন্নীর বইশ নিয়ে হাঁটে । গেল সপ্তাহে আমার সাথে দেখ হল সিন্নীর বইশসহ। গ্রাম ওয়ারু,থানা নবীনগর, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আমরা নবীনগর থেকে মটর সাইকেল যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছি। বিলের মাঝখান দিয়ে তৈরি সরু রাস্তায় দেখা মিলল বাবুল আর ইদনের সাথে। ধূলায় মাখামাখি। গ্রামের পর গ্রাম সিন্নীর বইশ নিয়ে হেটে বেড়ানো ওদের পেশার অংশ।


সিন্নীর বইশ মানেটা কি? এই মহিষটি কেনা হয়েছে করিম শাহ’র মাজারে ওরস উপলক্ষ্যে। ওরসের দিন এটি জবাই করা হবে। এটি ছাড়াও আর একটি মহিষ কেনা হয়েছে। দুইটি মহিষ সাজিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের তাদের গ্রাম ভাগ করে দিয়েছেন। তারা মহিষ নিয়ে গ্রামে গ্রামে যায়। বাড়ি বাড়ি থেকে চাল, টাকা সংগ্রহ করে।

আর এর বিনিময়ে তারা দৈনিক কিছু টাকা পায়। টাকা চেয়ে বড় পরী-আউলিয়ার দোয়া । বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা এক মুঠো চাল ওরসের দিন হাজার হাজার মানুষের খাবারের জোগান হবে। কতদূর দূর থেকে মানুষ আসে এই করিম শাহ্’র মাজারে। বাবুল-ইদনের মুখে তৃপ্তির ছাপ।

আমি বললাম বাবুল ভাই আমাদের যেতে হবে। আমাদের এই শহুরে জীবনে তৃপ্তি নেই, আছে ক্লান্তি । শুধুই আছে ছুটে চলা। যন্ত্র আর আমাদের মাঝে কাগজ কলমে পাথ্যর্ক যাই থাকুক না কেন। আমি বলি পাথ্যর্ক নেই। আমরা যেখানে এখনো শুধুই নিজের কথা সেখানে বাবুল-ইদনরা মাইলের পর মাইল পাড়ি দিচ্ছে হাজার মানুষের একবেলার সংগ্রহের জন্য। আর তাই তাদের ক্লান্তি নেই, আছে শুধুই তৃপ্তি।

আমরা ধূলার সাথে লড়াই করে একের পর এক গ্রাম পারি দিচ্ছি। সন্ধ্যার আগেই পৌছাতে হবে গোকর্ণঘাটের এপারে তারপর নদী পাড়ি দিয়ে রেলগাড়িতে করে ঢাকায়।

আপনি কি কখনো সিন্নীর বইশ দেখেছেন? শুনেছেন রাত জেগে পালা-গান?
নবীনগর, নাসিরনগর, আখাউড়া, কসবা, সরাইলসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কিছু স্থানে এই মৌসুসে দেখা পেতে পারেন শিন্নীর বইস কিংবা বাবুল-ইদনদের। হয়তবা বুঝতে পারবেন জীবনমানে শুধুই আমি আর তুমি নয়।
জীবন আমরা হতে পারে, চারপাশের মানুষগুলো নিয়ে আমরা।
#ব্রাহ্মণবাড়িয়া, #সিন্নী