Monday, March 13, 2017

আগামী ১৫মার্চ তারিখ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন দিবস।

আগামী ১৫মার্চ তারিখ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন দিবস।
দেখি কি হয়!!!!

২০১৫ সালে আমি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে দেশের অন্যতম এক বহুজাতিক কোম্পানীর পণ্যের মোড়কে উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদ উত্তীনের তারিখ ব্যবহার না করার মর্মে একটি অভিযোগ দায়ের করি যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৭ ধারার অধীন দন্ডনীয় অপরাধ।
গত ২০১৫,২০১৬ এবং ২০১৭ সালে এই অভিযোগের জন্য শুনানীর জন্য বেশ কয়েকবার তারিখ নিধারণ করা হলেও প্রতিবার নানা সমস্যার কথা বলে তারা সময় নিচ্ছে। গত ১মার্চ ২০১৭ সালে শুনানীর কথা থাকলেও তারা সকালে এসে কর্তপক্ষ থেকে আবারও সময় নিয়ে যায়।
আগামীকাল ১৪ মার্চ ২০১৭ তারিখে সকাল ১১টায় আবারও শুনানীর তারিখ নিধারণ করা হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তারা তাদের পণ্য বিক্রি করে। সে পণ্যের মান রক্ষা করার দায়িত্ব তাদের। তারা দাবী করে তারা বিশ্ব বিখ্যাত কোম্পানী এবং তাদের পণ্যের মান বিশ্বমানের তাহলে তারা কেন পণ্যের গায়ে উৎপাদন তারিখ ব্যবহার করে না?
আমি আগামীকাল সকাল ১১টায় যাব জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে শুনানীর জন্য। ক্রেতা স্বার্থ রক্ষায় আমার এই শুনানীর জন্য আল্লাহ-ই জানে আর কতদিন যেতে হবে।
২০১৫ সাল থেকে আমি শুধুই ঘুরছি আর ঘুরছি। আমার জানা এটি দেশের একমাত্র অভিযোগ | যা নিষ্পত্তি হতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে। কেন লাগছে এত সময় দয়া করে তা কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না।
শুধু জানি হারা যাবে না। আগামীকাল বিশ্বমানের পণ্য উৎপন্নকারী, বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানীর বিখ্যাত কোম্পানী দেখি গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় আবার কি পদক্ষেপ নেয়। কাল সকাল ১১টা পর্যন্ত শুভ কামনা।

Saturday, February 4, 2017

নীলক্ষেত গাউছুল আযম মার্কেটের সামনের ফুটপাতের মুড়ি ভর্তা

 ঢাকায় কোথায় কি খাবার পাওয়া যায় তা নিয়ে আপনাকে জ্ঞান দেওয়ার সাহস আমি করি না। তবে বলি কি সুযোগ পেলে একবার নীলক্ষেত গাউছুল আযম মার্কেটের সামনের ফুটপাতের মুড়ি ভর্তা খেতে পারেন।
আপনার মুখে ঢাকার হাজার টাকার মুড়ি ভর্তা খাওয়ার স্বাদ লেগে আছে তা জানি । কিন্তু এখানে পাবেন অন্যরকম স্বাদ সাথে বিক্রেতার ভালবাসা।



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিন্নীর বইশ (মহিষ)।


ইদন আর বাবুল পেশা তাদের দিনমুজুর। কিন্তু বছরের এই সময়টা তারা গ্রামে গ্রামে সিন্নীর বইশ নিয়ে হাঁটে । গেল সপ্তাহে আমার সাথে দেখ হল সিন্নীর বইশসহ। গ্রাম ওয়ারু,থানা নবীনগর, জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আমরা নবীনগর থেকে মটর সাইকেল যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছি। বিলের মাঝখান দিয়ে তৈরি সরু রাস্তায় দেখা মিলল বাবুল আর ইদনের সাথে। ধূলায় মাখামাখি। গ্রামের পর গ্রাম সিন্নীর বইশ নিয়ে হেটে বেড়ানো ওদের পেশার অংশ।


সিন্নীর বইশ মানেটা কি? এই মহিষটি কেনা হয়েছে করিম শাহ’র মাজারে ওরস উপলক্ষ্যে। ওরসের দিন এটি জবাই করা হবে। এটি ছাড়াও আর একটি মহিষ কেনা হয়েছে। দুইটি মহিষ সাজিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের তাদের গ্রাম ভাগ করে দিয়েছেন। তারা মহিষ নিয়ে গ্রামে গ্রামে যায়। বাড়ি বাড়ি থেকে চাল, টাকা সংগ্রহ করে।

আর এর বিনিময়ে তারা দৈনিক কিছু টাকা পায়। টাকা চেয়ে বড় পরী-আউলিয়ার দোয়া । বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা এক মুঠো চাল ওরসের দিন হাজার হাজার মানুষের খাবারের জোগান হবে। কতদূর দূর থেকে মানুষ আসে এই করিম শাহ্’র মাজারে। বাবুল-ইদনের মুখে তৃপ্তির ছাপ।

আমি বললাম বাবুল ভাই আমাদের যেতে হবে। আমাদের এই শহুরে জীবনে তৃপ্তি নেই, আছে ক্লান্তি । শুধুই আছে ছুটে চলা। যন্ত্র আর আমাদের মাঝে কাগজ কলমে পাথ্যর্ক যাই থাকুক না কেন। আমি বলি পাথ্যর্ক নেই। আমরা যেখানে এখনো শুধুই নিজের কথা সেখানে বাবুল-ইদনরা মাইলের পর মাইল পাড়ি দিচ্ছে হাজার মানুষের একবেলার সংগ্রহের জন্য। আর তাই তাদের ক্লান্তি নেই, আছে শুধুই তৃপ্তি।

আমরা ধূলার সাথে লড়াই করে একের পর এক গ্রাম পারি দিচ্ছি। সন্ধ্যার আগেই পৌছাতে হবে গোকর্ণঘাটের এপারে তারপর নদী পাড়ি দিয়ে রেলগাড়িতে করে ঢাকায়।

আপনি কি কখনো সিন্নীর বইশ দেখেছেন? শুনেছেন রাত জেগে পালা-গান?
নবীনগর, নাসিরনগর, আখাউড়া, কসবা, সরাইলসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশ কিছু স্থানে এই মৌসুসে দেখা পেতে পারেন শিন্নীর বইস কিংবা বাবুল-ইদনদের। হয়তবা বুঝতে পারবেন জীবনমানে শুধুই আমি আর তুমি নয়।
জীবন আমরা হতে পারে, চারপাশের মানুষগুলো নিয়ে আমরা।
#ব্রাহ্মণবাড়িয়া, #সিন্নী

Tuesday, November 22, 2016

পেশায় তারা ভূতওয়ালা।

না ভুল শুনেনি। পেশাই তাদের ভূতওয়ালা। ভূতই তাদের রুটি,রুজি। ভূত নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান। গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই ‍ভূতওয়ালা বলেই জানে তাদের। আর আমিতো ভূত দেখতেই গেলাম। 
সারারাত ট্রেন জার্নি (ভ্রমণ করে) যখন আমরা পৌঁছালাম ভূতওয়ালাদের গ্রামে তখন বেলা শুরু। বছরে এই সময় তাদের কাজের চাপ কিছুটা থাকে। তবে চৈত্র মাসে চাপ খুব বেশি। ঐ সময় ভূতওয়ালাদের ঘুমও নাকি হারাম।
তবে আজ ভূতওয়ালাদের বিন্দুমাত্র সময় নেই আমাদের সাথে কথা বলবে। গত রাতে উত্তর পাড়া থেকে ডাক এসেছিল। সন্ধ্যার আগে আগে যেতে হবে আরো তিন বাড়ি। সারারাত উত্তর পাড়ায় ভূত নিয়ে কাজ করতে হবে। 
এ বাড়ি ঐ বাড়ি সবার ডাকাডাকি ও ভূতওয়ালা আমাদের বাড়ি আসো তোমার ভূত নিয়ে। ভূতের কদর, ভূতওয়ালার কদর। আমাদেরও কদর কম নয়। আমরা মেহমান। তাই হাজার ব্যস্ততার মাঝে বাড়ির লোকজন আমাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আমরা তাদের কাজের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে চলে আসলাম। অবসরে দেখা হবে। কথা হলে আড্ডা। শহরবাসীও না হয় জানাব কে ভূতওয়ালা । কি ভূত তারা পোষেন।






ওরা তিনজন ভূতওয়ালা।

এ কেমন পেশা?
মাসখানিক পর আমরা আবারও গেল ভূতওয়ালাদের গ্রামে। ওহ ভূতওয়ালা একটু সময় হবে ভাই? না সময় নেই। নতুন ফসল আমাদের তাদের নাওয়া খাওয়া কেড়ে নিয়েছে। আমি তিনজের দলে আর একজন । সারাদিনের জন্য দিনমজুর হয়ে গেলাম। খাওয়া ফ্রি। বিনিময়ে কোন টাকা মিলবে না।

পাবনার বিভিন্ন গ্রামে ভূত ও ভূতওয়ালাদের দেখা মিলবে। তারা গ্রামে গ্রামে ছুটে চলেন ভূত নিয়ে। ভূত এক ধরনের মটর চালিত মাড়াই যন্ত্র। ধান, গম,ভুট্টা, তিল, তিশি, মাসকলাই, সরিষাসহ নানা ফসল মাড়াই করা হয় এই মেশিনের সাহায্যে। এই মেশিনের একদিকে দিয়ে পুরো কান্ডসহ বিভিন্ন ফসল ডুকিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিক দিয়ে ফসল ও উচ্ছিষ্ট আলাদা হয়ে বের।




ফসল মাড়াই যন্ত্র ভূত।

এই মেশিনের নাম স্থানীয় ভাবে ভূত । যারা মেশিন চালায় তারা ভূতওয়ালা। ভূতওয়ালাদের নিয়ে গ্রামে নানা কথা প্রচলিত আছে এখন। বলা হয় ভূতওয়ালাদের পেট নাকি ভূতের ন্যায়। আস্ত গরু খেয়ে ফেলতে পারে তারা। ধান,সরিষা,ভুট্টা,তিল,তিশি, মাসকলাই যাই মাড়াই করা হোক ভূতওয়ালাকে প্রতি মণে তিন কেজি দিতে হয়। সাথে খাবার সারাদিনের খাবার, পান, চা, বিড়ি তো আছেই।




আমি ভূতের ভাগ বুঝে নিচ্ছি। প্রতি মণে তিন কেজি।

উত্তরপাড়া যাবার আগেই আমি ক্লান্ত দেহ নিয়ে চলে আসলাম। সারা শরীরে আমার মাসকলাইয়ের গন্ধ। সবাই আমাকে নবান্নের আমন্ত্রণ দিল। আর মাসখানি পর শুরু হবে নবান্ন উৎসব। শহুরে সেই ব্যানার, পোস্টার, পত্রিকার পাতায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই স্বাদ-গন্ধহীন কৃত্রিম নবান্ন উৎসব নয়। এই গ্রামে নবান্ন মানে দলে দলে গ্রামের মেয়েরা বাড়ি আসবে। সাথে শিশুরা। জামাইদের জন্য শত পদের পিঠা বানানো হয় এই গ্রামে। 
ভূতের মালিক সামছু ভাই আমাকে এগিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন। ভাই ভূত মেশিন ভাল না। অনেক মানুষ বেকার হইয়া গেছে। দশজনের কাজ একাই করা যায়। এতগুলা মানুষের রুটি-রুজি শেষ করে দিল। 
আসলেন আর যাবেন। একদিন থেকে যান। তিলের পিঠা বানাবে আপনার ভাবি। কিছুই তো খাওয়া হল না। থাকলে সমস্যা কি একদিন বেশি থাকলে। একদিনের সম্পক তার চোখে পানি। একদিনের সম্পর্কের সামছু ভাই আমার স্মৃতি চাঁদের মত উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন।
আমি সন্ধ্যার ট্রেনে ঢাকায় ফিরছি। সারা আকাশ জুড়ে আজ চাঁদের রাজত্ব। আজব চাঁদ। আমার ঢাকায় ফিরতে ইচ্ছে করছে না। জয়দেবপুর নেমে গেলেই ভাল হয়। ঢাকার আকাশে চাঁদ ভাল লাগে না। ঢাকার আকাশে ধূলার স্তর অনেক বেশি। তাই চাঁদের রূপ ভাল ভাবে উপভোগ করা যায় না। 
এই নবান্নে না হোক পরে নবান্নে পাবনার, চাটমোহর,অটলংকার গ্রামের সেই চিকনাই নদীর পাড়ের চাঁদ আর ভূতওয়ালা সামছুর দুজনের সাথে আবার দেখা হবে। এই প্রত্যাশা নিয়ে আরো কয়েক যুগ বাঁচতে চাই।

Wednesday, November 2, 2016

নগর চড়াই/চড়ুই

'বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই, কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াইআমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে

স্বাধীনতার সুখ নামক কবিতায়  রজনীকান্ত সেন এর চড়াইয়ে সুখের গল্প সবাই জানলেও। সুপরিচিত চড়াইয়ে নগর জীবনের সুখ শূন্যের কোটায় । বিশেষ করে ঢাকার মত শহরগুলোতে চড়াই/চড়ুই দেখা পাওয়াই কঠিন।

যেকোন লোকালয়ের আশেপাশে চড়ুই একটি সুপরিচিত পাখিএরা জনবসতির মধ্যে থাকতে ভালোবাসে তাই এদের ইংরাজি নাম হাউস স্প্যারো অর্থাৎ "গৃহস্থালির চড়াই/চড়ুই।

পৃথিবীতে মোট ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়জীববিজ্ঞান অনুযায়ী এদের পরিবার ১১টি গণে বিভক্ত। "গৃহস্থালির চড়ুই" এদের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিতএদের আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ  

কয়েক দশ আগেও ঢাকা শহরে বাড়ির উঠান, ঘরের কোনে, বারান্দায় চড়ুইয়ের উপস্থিতি ছিল খুবই স্বাভাবিক চড়ুইয়ের ডাকে শুরু হত সকাল। আর সন্ধ্যায় চড়ুইয়ের ডাকে আমরা বুঝতাম মাঠ থেকে বাড়ি ফিরতে হবে। ঘরের ভেন্টিলেটারে চড়াই দম্পতির সংসারটায় সদ্য জন্ম নেওয়া চড়াই আমাদের পরিবারের অংশই ছিল। ভোর রাতে রোজার সময় প্রায়ই দেখতাম চড়াই এসে খাবার নিচ্ছে টেবিল থেকে। মাঝে বারান্দায় রেখে যাওয়া চায়ের কাপে খুই উৎসাহ নিয়ে চড়াই ঠোট ভিজায়। এসব খুব বেশিদিন আগের নয়। গেল দুই দশ আগের গল্প।

শহরটা ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে চড়াইয়ের জন্য। স্বাধীনতার সুখ কবিতার বাবুই তো শহর ছেড়ে পালিয়েছে বহু আগে।  আর চড়াই গত কয়েক শতকে ইট কংক্রিটের নগর জীবনের সাথে শহুরে জীবন যাত্রা মানিয়ে নিতে পারলেও।   বতমানে নগরগুলো চড়াই শূন্য হয়ে পড়ছে। নগরগুলোতে চড়াই কমে যাবার অন্যতম কারণ হল মোবাইল অপারেটরদের টাওয়ারগুলোযেখান দিয়ে তরঙ্গ প্রবাহিত করে সেই জায়গাগুলোই চড়াইদের উড়ার জন্য প্রকৃত উচ্চতাফলে তারা বেশীর ভাগ সময়ই সাবলীলায় উড়তে পারে না, পথ হারায়

ইট কংক্রিটের শহরে মানুষের তৃষ্ণনা মেটাতে নগর কতৃপক্ষে হাজার কোটি টাকা বাজেট থাকলেও কোথাও চড়াইয়ের তৃষ্ণনা মেটাবার জলের ব্যবস্থা নেই। নগরে কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দযবধনের সারি সারি গাছ লাগনো হয় । কিন্তু ক্ষুদ্র চড়াইয়ে খাদ্যের জোগান দিবে তেমন গাছ নেই। সব মিলিয়ে নগরগুলো চড়াই বান্ধব নয়।

আমাদের এই পরিবেশ বিধ্বংসী উন্নয়নের কারনে হয়ত একদিন নগর থেকে চড়াই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।  কিন্তু বিলুপ্ত শুধু চড়াইয়ের মত ক্ষুদ্র পাখিটির বিলুপ্ত হওয়া নয়। চড়াইয়ের বিলুপ্তি নগরগুলো যে ক্রমেই মনুষ্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে তারই প্রমান।

এত হতাশার মাঝে ঢাকা শহরে কিছু কিছু স্থানে আমি সুখ নিয়ে চড়াই দেখি। সন্ধ্যায় কিচির মিচির শব্দে কানে তালা লাগার মত অবস্থা। আমি অস্থির চোখে তাকিয়ে দেখি চড়াই দম্পতির ব্যস্ততা। তারপর সন্ধ্যার আলো নেভার আগেই চড়াইগুলো কোথায় যেন মিলিয়ে যায়।

তবে কিছু কিছু এলাকায় ভিন্ন আচরনের চড়াই দেখি। দেখি সারারাত শত শত চড়াই দম্পতি গাছে ডালে বসে থাকে। তাদের কোন ঘর নেই। পাশে বড় বড় অট্টালিকা থাকলে শত শত চড়াইয়ে কেউ সেই অট্টালিকাগুলোতে যায় না। মোহাম্মদপুর বেড়িবাধ এলাকার সাদেক খান ফিলিং স্টেশনে বাগান বিলাশ গাছের ঝোপে আমি এমন কয়েকশ চড়াই দেখেছি। দিনের পর দিন সারা রাত জেগে থেকে লক্ষ্য করেছি পাখিগুলো রাতে কোথাও যায় কিনা। ভোর হবার আগ পযন্ত ওরা ওখানে বসে থাকে। তেল পাম্পের কতৃপক্ষ চড়াইয়ের জন্য খাবার পানি ও খাদ্যের বিশেষ ব্যবস্থা করেছে।

রজনীকান্ত সেন  এর স্বাধীনতার সুখ নামক কবিতা আর আমাদের ভেন্টিলেটারে থাকা চড়াই দম্পতি দেখে বুঝতে শিখে ছিলাম চড়াইরা অট্টালিকায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু সাদেক খান পাম্পের নগরের এই চড়াইগুলো দেখি ভিন্ন কিছুতারা সারারাত গাছেই থাকে। হয়তবা প্রতিকূল পরিবেশ বেঁচে থাকার জন্য ভিন্ন কোন কৌশল রপ্ত করছে। 

কৌশল যাই হোক চড়াইগুলোকে বাঁচতে দিতে হবে। আমাদেরও কৌশলী হতে হবে। আমাদের চারপাশের পরিবেশ চড়াইবান্ধব করতে হবে। যে শহরে এই ছোট প্রাণী চড়াই নিরাপদ নয় সেই শহরে আমরা এত বড় প্রাণী আর কতটাই নিরাপদ থাকবে। বিলুপ্ত হওয়া চড়াই রক্ষার স্বার্থে একদল লোক ২০১০ সাল থেকে ২০ মার্চ   পালন করছে চড়ুই দিবসবা World Sparrow Day
 শুধুই নগরে চড়াই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াই সমস্যা নয়। সমস্যা হল এই শহরে চড়াই বিলুপ্ত হওয়াটা আমি দেখছি মানুষ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পদধ্বনি হিসেবে।


Monday, October 31, 2016

বাংলাদেশের যে গ্রামে ফ্র্রি থাকা খাওয়া ব্যবস্থা আছে ।

পৃথিবীর যে কয়টা মেগাসিটিতে কমদামে থাকার হোটেল পাওয়া যায় তার মধ্যে ঢাকা অন্যতম। এক ডলারের কিছু বেশি খরচ করলে ঢাকায় থাকার হোটেল মিলে। তাও আবার ভাসমান থাকার হোটেল। এই খবর টি এখন আর্ন্তজার্তিক গণমাধ্যমের কল্যানে সারা পৃথিবীর ভ্রমণপিয়াসী মানুষ জানে।  
কিন্তু বাংলাদেশে টাকা ছাড়াই থাকার ব্যবস্থা আছে। আছে খাবারের ব্যবস্থা। নিরাপত্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, সহযোগিতা আর তারচেয়ে বড় কথা মানুষের বিপদে মানুষের পাশে মানুষ থাকবে। মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার এই সংস্কৃতি একটা দুইটা জায়গা নয়। গ্রামের পর গ্রাম মিলবে এই সংস্কৃতি।
আমার নেশা ঘুরে বেড়ানো। আর এই নেশার সাথে যুক্ত কত কম খরচে ঘুরে বেড়ানো যায়। কোথাও যদি বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই।
ব্যাগ, পানির বোতল আর সেলফোন নিয়ে উদ্দেশ্যহীন ভাবে বেড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশে কোথাও আটকাতে হয় না। প্রতিবার হয়েছে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা। যুক্ত হয়েছি নতুন নতুন মানুষের সাথে। আর ভ্রমনের নেশাটাও তাই গরীবের ঘুরা না হয়ে আর্শিবাদ হয়ে গেল।
গন্তব্য উত্তরবঙ্গ। আমাদের তাড়া নেই। তারপরও দ্রুতযান নামের ট্রেনের চেপে বসলাম। বরাবরের মত শেষ সময়ে ট্রেনে সিটসহ টিকেট পেয়ে গেলাম। ট্রেন দ্রুততার সাথে গন্তব্যেরে দিকে যাচ্ছে। আমার সহ ভ্রমণকারী যাব কোথায়? থাকব কোথায় তা নিয়ে কোন প্রশ্ন করছে না। ট্রেনে কথা বলে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যেখানে যাব সেখানে কোন হোটেল নেই। ট্রেনে সবাই বুদ্ধি দিল সারারাত চাটমোহর স্টেশনে থেকে সকালে হবার জন্য। রাতে এই অঞ্চল নাকি নিরাপদ নয়।
ট্রেন রাত ১.০০টার পর চাটমোহরে পৌছল। স্টেশনের লোকজন জানাল আশেপাশে কোন থাকার হোটেল নেই। একটু ভিতরের গ্রামে গেলে ও“খানকা ঘর” এ থাকতে পারবেন। আমরা রাত একটায় চাটমোহর স্টেশন থেকে বের হয়ে রওনা হলাম। দেখি থাকার কোন ব্যবস্থা হয় কিনা?
মিনিট ৩০ র্নিজন রাস্তা চলার পর চাটমোহর স্টার হোটেলের মোড়ে এসে জানলাম স্টার হোটেল থাক নয়, খাবারের হোটেল।  

আমরা চাটমোহর মোড়ে ৮০+ বয়সী নিরাপত্তা প্রহরী চাচার সাথে রাত কাটিয়ে দেওয়াটাই নিরাপদ ভাবলাম। চাচা জানাল বাস স্ট্যান্ডের মোড়ে একটা থাকার হোটেল আছে।
সেলিম বোডিং। এত রাতে এই বোডিংয়ে অতিথি রাখে না। আমাদের সব সম্ভবের অপু সেলিম বোডিংয়ের মালিককে ঘুম থেকে ডেকে আমাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করে ফেল। ভাড়া ৮০টাকা । সারারাত ছারপোকার সাথে লড়াই করে ভোরে রওনা হলাম আটলংকার উদ্দ্যেশে। চারিদিকে ফসলের মাঠগুলো এখন বিশুদ্ধ সবুজ। এখানে নদীর জলও সবুজ। নদীর নাম চিকনাই। এই নদীর পাড়ের গ্রাম আটলংকা আমাদের গন্তব্য। আটলংকা সত্যি সুখী গ্রাম। এই গ্রামে গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ, চিকনাই নদীর মিঠা পানি।
গ্রামের মানুষগুলো তাদের গ্রামে দূর দূরান্তের মানুষের বিশ্রাম বা সাময়িক আশ্রয়ের জন্য তৈরি করেছে “খানকা ঘর”। এক সময় প্রতিটি অবস্থা সম্পন্ন বাড়ির সামানে একটি করে খানকা ঘর রাখাই বাধ্যতামূলক ছিল। এখনও আছে তবে তার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
সেই কমে যাওয়ার মাঝেও একটি খানকা ঘর আটলংকা, বউ বাজার সংলগ্ন বাড়ির খানকা ঘর।
কথা হয় চেয়ারম্যান বাড়ির ছোট ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম সাথে। তিনি পেশায় শিক্ষকতা করেন। জন্মের পর থেকে খানকা ঘর দেখে আসছে তিনি। আগে গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতেই ছিল। আমারও এখনও ঘর রক্ষনাবেক্ষন করছি।
ঝড়, তুফান দিন কিংবা পথিক ক্লান্ত হলে এই ঘরে আশ্রয় নেয়। আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সেবা করি।
এক সময় এই গ্রামগুলোতে প্রচুর লোক আসতো বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা কাজে। এখনো আসে ফসলের সময় প্রচুর মানুষ আসে দূরদুরান্তর থেকে। মানসিক ভারসাম্যহীনরা আশ্রয় নেয়। সবারই আশ্রয় জুটে এখানে।
আমাদের খানকা ঘরে দরজা নাই। তার অর্থ আপনি দুনিয়ার যে প্রান্তের মানুষ হন না কেন খানকা ঘরে আপনার থাকার অধিকার আছে। আপনি যখন আশ্রয় পেয়েছেন। খাবার জোগাড় হবেই। রিজিকের মালিক আল্লাহ। গ্রামের একজনের খাবার থাকলে মেহমান খালি মুখে যাবে না খানকা ঘর থেকে।
খানকা ঘরের পাশেই পুকুর পথিকের পানির চাহিদা পূরণের জন্য খনন করা হয়েছিল। আমরা খাওয়া দাওয়া শেষ করে খানকা ঘরে বসে আছি। দুপুর বেলায় পুকুর পাড়ে শান্ত পানিতে সাদা-কালো ফুটফুটে মাছরাঙ্গার মাছ শিকার দেখছি। একটু দূরে চিকনাই নদীতে শুনতে পাচ্ছি নৌকা বাইচের জন্য নৌকা যাচ্ছে । সৌখিন মাঝিদের কণ্ঠে গান। এই গান সুখের গান। গ্রামের মা-বৌরা কড়তালি দিয়ে উৎসাহ জোগাচ্ছে। বিকেলে ছেলে বুড়ু সবাই যাবে নৌকা বাইচ দেখতে। এ উপলক্ষ্যে মেলা বসবে। সবার অনুরোধ নৌকা বাইচ দেখতে যাবার জন্য।
কিন্তু আমাদের তাড়া। ঢাকায় ফিরতে হবে।
মাত্র কয়েক যুগের ব্যবধানে আমার আরবান লিভিং কন্সেপট এর অন্তজালে জীবনকে আমি আর তুমিতে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি। আমাদের এই নাগরিক জীবন ধারা যখন একটি প্রজন্মকে শেখাছে জীবন মানেই শুধুই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিংবা শুধুই মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
সেখানে উন্নত জীবনের পরিকল্পিত ছক আঁকতে গিয়ে এই বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিরোধে চাটমোহর থানার বিভিন্ন গ্রামের খানকা ঘরগুলো সামাজিকতা, মানবতা, মানুষের পাশে মানুষ দাড়ানো শেখানোর জীবন্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূল্যায়ন করা এবং তা থেকে অর্জিত জ্ঞান যদি আমার আমাদের নগরায়নের পরিকল্পনায় অর্ন্তভুক্ত করতে পারি। তবে আমরা আর বিচ্ছিন্ন হব না। আমাদের আগামী প্রজন্মটা শেকড়হীন হয়ে পড়বে না।
শুভ কামনা আটলংকা গ্রামবাসী। আপানাদের ঐক্য, সামাজিকবন্ধন সারাদেশের জন্য উদাহরণ হোক।

Tuesday, August 23, 2016

মুড়ি ভর্তা

৮০০টাকায় মুড়ি ভর্তা? না ভুল বলিনি অথবা ভুল শুনেনি। পাঁচ তারকা কোন হোটেলে নয় বাড্ডা লিংক রোড, গুদারা ঘাট, ঝিল পাড়ের দোকান। মুড়ি ভর্তা মানে যেই সেই মুড়ি ভর্তা নয়। ৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে বিশ টাকা পর্যন্ত। সাথে পাবেন টক, অদ্ভুদ টক, দই টক, গ্রীন টক।

যেহেতু দোকানের নাম শাহী মুড়ি ভর্ত। সেখানে নবাবী খাবারও পাবেন। নবাবী ভুড়ি ভুনা নামের খাবারের দাম মাত্র ৪০টাকা। মশলা, ডিম, মুরগী, কোয়েল, কবুতর, গরু কালা ভুনা, হাঁস কত কি দিয়ে যে মুড়ি ভর্তা হয় এই দোকানে।

যাদের বিশ্বাস টাকা হলে সব মিলে তারা কিছুটা হতাশ হবেন। সময় মত না গেলে লাখ টাকা হলেও আপনি শাহী মুড়ি ভর্তা পাবেন না।

টেস্টিং সল্ট আর পোড়া তেল ছাড়া তৈরি এই খাবার (বিক্রেতার দাবী)। খাওয়ার জন্য আমরা যখন গেলাম তখন প্রায়ই সব শেষ শেষ অবস্থা।

গতকাল আমি গিয়েছিলাম আমার এক দোস্তকে থাব্রাইতে। হাতিরঝিল পার হয়ে লিংক রোড হয়ে বারিধারা যাব। পথেই মিলল এই দোকান।

দোকানের মালিক জসীম সাহেব। কোটি টাকা ছাড়াও যে ঢাকায় ব্যবসা করা যায়। আস্থা আর ক্রেতার সন্তুষ্টির মাধ্যমে শীর্ষে পৌছা যায় তার প্রমাণ শাহী মুড়ি ভর্তা।

শুভ কামনা তরুন ব্যবসায়ীদের যারা ভাবছেন ব্যবসা করবেন করবেন। অনেক তো হল মিটিং-সিটিং, ওয়ার্কসপ, সেমিনার। এবার নেমে পড়ুন। মুড়ি ভর্তা কিংবা আলু ভর্তার দোকান। ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারলেই আপনি সফল।

প্রথমে মুনাফা থেকে ক্রেতার সন্তুষ্টির দিকে বেশি নজর দিন। সফল হবেন ইন শা আল্লাহ।