Sunday, January 31, 2016

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে স্বাধীনতা পদক/একুশে পদক প্রদান প্রসঙ্গে।

বরাবর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়
ঢাকা, বাংলাদেশ।


বিষয় : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে স্বাধীনতা পদক/একুশে পদক প্রদান প্রসঙ্গে।

জনাব
শুভেচ্ছা নিবেন।  নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসা সেবায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল আস্থার নাম। গভীর রাত, ভোর, দুপুর, হরতাল, বন্যা, বিত্তবান-বিত্তহীন, সজ্ঞান-অজ্ঞান কারো জন্য এই হাসপাতালের দরজা বন্ধ হয় না। গত ৬৭বছরে এই হাসপাতাল কত কোটি পরিচয়হীন আর ভারী পরিচয়যুক্ত মানুষের সুখ,দু:খের সাথী হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল তার হিসেব কোথাও নেই। মাত্র দুই হাজারের মত কর্মকর্তা কর্মচারী দিয়ে বছরে এখনও ১০ লরে বেশি মানুষকে সরাসরি সেবা দেয় এই হাসপাতালটি।

শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, ভাষা আন্দোলন, ষাটের দশকে ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ছাত্র,চিকিৎসক,কর্মকর্তা,কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে যোদ্ধা, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় চিকিৎস, দেশের গঠনের অসংখ্য কারিগর তৈরির কারখানা এই ঢামেক।

সীমিত লোকবল, সীমিত সম্পদ এর পাশাপাশি নানাবিধ সমস্যার কারণে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব হাসপাতালের সেবা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠে। তথাপি গরীব সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় আশ্রয়স্থল হাসপাতাল। রাষ্ট্রীয় এই হাসপাতাল সেবা নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে , কিন্তু সেবা প্রদানের নূন্যতম স্বীকৃতি নেই।

ভাষা আন্দোলন, ষাটের দশকে ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষায় স্বীকৃতি সরূপ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবদানের জন্য এই হাসপাতালকে স্বাধীনতা পদক / একুশে পদক প্রদান করা হোক। এক ধরনের ইতিবাচক স্বীকৃতি তাদেরকে জনগণকে আন্তরিক সেবাদানে আরো উদ্ধুদ্ধ করবে।

আমরা বিশ্বাস করি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আর জনগণের দায়িত্বশীল আচরণ ও ভালবাসায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম আরো গতিশীল হয়ে উঠবে।

অনুলিপি :
১.    মাননীয় মন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
২.     সিনিয়র সচিব, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৩.    সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৪.    মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৫.    মহাপরিচালক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


ধন্যবাদসহ
সৈয়দ সাইফুল আলম
০১৫৫২৪৪২৮১৪
shovan1209@yahoo.com

Wednesday, January 6, 2016

নদীত গিয়ে লাভ কি, আসুন বনে যাই। বনে যেতেও ভয় হয়। আমি ভীতু মানুষ।

 

 সন্ধ্যা হবার একটু বেশি আগেই এখানে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বিদ্যুৎ এর উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেনি জীবন যাত্রা। হাতের ঘড়ি থেকে সূর্য ঘড়িটাই প্রভাব বেশি এই মানুষগুলোর জীবনে।

শিয়ালের হাক-ডাক দিনের আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথে শুরু। শহুরের শীত নয়, এখানে শীতটা কিছুটা ক্ষ্যাপাটে। শীতের একটা ভিন্ন রূপ আছে এখানে।

নদীর পাশেই বন কিংবা বনের পাশে নদী। যাই বলি না কেন। তার মাঝখানেই থাকার জায়গা। ঘরটা মন্দ নয়। ঘর থেকে বের হলেই নদী অথবা বন। কোথায় যাবেন?

এই ঠান্ডায় নদীত গিয়ে লাভ কি, আসুন বনে যাই। বনে যেতেও ভয় হয়। আমি ভীতু মানুষ।
আর কয়েকজন মানুষ হলে ভাল হত। আসে পাশে একটা সাহসী মানুষ থাকলে বনের রাতের রূপটা দেখা যেত।
নাহ ঢাকা থেকে খুব দূরের কোন গ্রাম কিংবা গহীন অরণ্য নয়। ঢাকার পাশেই পেতে পারেন এই স্বাদ। শীতকে কাবু করে রাত তো অনেক কাটিয়েছেন কম্বল মুড়ি দিয়ে। একটু শীত উপভোগ করার সুযোগটাও হয়নি জীবনে, তা কি করে হয়।
যদি আমার চেয়ে আপনার সাহস বেশি থাকে। যদি মনে হয় স্লীপিং ব্যাগটায় ঘুমিয়ে পার করে দিতে পারবেন রাত কোন অভিযোগ ছাড়াই ।

তবে শুক্র/শনিবার বাদ। কারণ বন্ধের দিনে এই একরুমের বাংলোর কোনভাবেই ফাঁকা পাওয়া সম্ভব নয়। তবে কর্মদিবসে এখানে ফাঁকা । রাতগুলো আরো গভীর অন্ধকার হয়ে ফিরে আসে। আগামী জোছনায় কয়েকটা সাহসী মানুষ ভাড়া করে নিয়ে যেতে চাই।থাকার জন্য কোন ভাড়া দিতে হবে না। শুধুমাত্র যাতায়াত ভাড়া আর যার যার খাবার বিলটা নিজে দিয়ে দিবেন।

রাজি থাকলে ইনবক্সে জানিয়ে রাখুন। নিরাপত্তার বিষয়ে বলে রাখি শতভাগ নিরাপদ। কারণ ঘুমের মাঝে ভূমিকম্প হলেও আপনি দেয়াল চাপা পড়ে মরবেন না। আর চোর ডাকাত ???? খুব কাছাকাছি বাড়িটাও মাত্র ১.৫ দূরে। আপনার হাত ঘড়ির টিক টিক শব্দ, শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ ছাড়া অন্য সকল শব্দই প্রকৃতির সৌন্দর্য রূপে গণ্য সেখানে।

ভয়ে ভয়ে আমি একটা বুকিং দিয়ে দিলাম। গত জোছনার মত আশা করি এই জোছনাও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খুব বেশি ভয় পাবার কারণ নেই। কারণ ওখানে ছবি এই বাসিন্দরা থাকে বহু বছর ধরে।

Tuesday, December 15, 2015

একজন নগরপিতার একটা ডাস্টবিন আর আমালাদের অযুহাতের কাছে হার মানতে পারে না।


 মাননীয় মেয়র আনিসুল হক

আপনার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য শহরের রাস্তায় বড় বড় বিলবোর্ড, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ছাপানোর সামর্থ্য নেই। আমি একজন নাগরিক হিসেবে আপনার প্রতি বেশ কয়েকবার ( ইমেল,ফ্যাক্স,ডাকযোগে) চিঠি পাঠিয়েছি। কোন চিঠি উত্তর পাইনি। চিঠির উত্তর না পাওয়ার ক্ষোভটা আপনি তৈরি করেছেন। কারণ নাগরিকের প্রতি আপনার দায়িত্বশীল আচরণ আমাদের আরো বেশি আশাবাদী করে তুলেছে। তাই আমরা আপনার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশের সাহস রাখি। মাননীয় মেয়র সারি সারি দরজা ঠেলে আমলাতাক্রিক জটিলতার মাধ্যমে আমার আপনাকে আমাদের অভাব, অভিযোগ, ভালবাসা জানাতে চাই না। আমরা চাই সকালবেলার প্রাতভ্রমনে আপনার কাছ দিয়ে একটু জোরে হেঁটে যাবার পথে গতি কমিয়ে বলব , ধন্যবাদ মেয়র সাতরাস্তা আর গাবতলীর রাস্তার চিত্রটা পাল্টে দেবার জন্য। মেয়র ধন্যবাদ গ্রহন করুন আকাশ ঢেকে ফেলা দৈত্যাকার বিলবোর্ডের জঞ্জাল সরিয়ে দেওয়ার জন্য। সকালবেলা বাসে অফিস ফেরার পথে পাশে বসা আপনাকে বলতে চাই প্রিয় মেয়র একটা আগ্রীম ধন্যবাদ মোহাম্মপুর মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে থেকে ডাস্টাবিনটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য। আমরা বিশ্বাস করি ঢাকা এমনই হবে। চাইলেই নাগরিকরা আপনার কাছে ছুটে যেতে পারবে। আপনি আমাদের এই স্বপ্ন দেখাছেন। আপনার দৃষ্টি আর্কষণের জন্য নিচের চিঠিটি আবারও প্রকাশিত হল। মাননীয় মেয়র শুভ কামনা আপনার জন্য। ঢাকা শহরে একটা শিশুর জন্মগ্রহণে লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। বেশির ভাগ হাসপাতালের বাধ্যতামূলক সিজার বাণিজ্য আর যদি এনআইসিওতে বাচ্চাটা ভর্তি করা যায়। তবে তার ব্যয় কয়েক লক্ষ টাকা ছেড়ে যায়। এই বাস্তবতায় মোহাম্মদপুরের ১০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালটি মধ্যবিত্ত,নিম্ন মধ্যবিত্ত, বিত্তহীন মধ্যবিত্ত, কাগুজে মধ্যবিত্ত আর পোষাকী মধ্যবিত্তের জন্য আর্শিবাদ। মাত্র ৫০০০ টাকায় সিজার আর ১২০০ টাকায় সাধারণ ডেলিভারি হয়। স্বল্পমূল্যে প্রতিবছর অসংখ্য নারীদের মাতৃকালী স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। আমরা চাই না ১০০ শয্যা মা ও শিশু হাসপাতালের সামনে যেন জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটা যেন না অপেক্ষা করতে হয়। কখন ডিসিসি ময়লাবাহী গাড়িটা সরে যাবে। আমরা চাই, আপনি একদিন হাসপাতালটায় যাবেন। আপনি যাওয়া উপলক্ষ্যে গত ২৫ আগস্ট ২০১৫ সালের সকাল ৯.১৫ মিনিটের মত হাসপাতালের ঢুকার মুখে রাস্তাটা ঝকঝক তকতক করবে। সেই ঝকঝক তকতক রাস্তা দিয়ে প্রতি বছর হাজার নব দম্পতি তাদের নবজাতক নিয়ে হাসতে হাসতে বের হবে। স্বামী তার স্ত্রীকে রুমালটা পকেট থেকে বের করে দিবে নাকে চেপে ধরার জন্য নয়। বেশ কয়েকদিন আলাদা বিছানায় শুয়ার কষ্টে চোখের জল মুছার জন্য। শিশুগুলো সবুজ ছায়া ঘেরা হাসপাতাল থেকে বের হয়ে জানবে এই শহরটা পুরোপুরি বাস অযোগ্য হয়ে পড়েনি। একজন মানবিক মেয়র আছেন যিনি শুধু টেলিভিশন, পত্রিকার পাতায় আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়। তিনি লড়াই করছেন শহরটা বাসযোগ্য করা জন্য। মাননীয় মেয়র আমলাদের ডজনখানিক অযুহাত কিংবা অপ্রয়োজনীয় যুক্তি পিছনে ফেলে হাসপাতালের সামনে থেকে ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্রটি সরানোর দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি কোটি মানুষের আস্থা, ভালবাসা আর বিশ্বাসের প্রতীক একজন নগরপিতার একটা ডাস্টবিন আর আমালাদের অযুহাতের কাছে হার মানতে পারে না। আপনার প্রতি শুভ কামনা। শুভ কামনা আপনার প্রতিজন নাগরিক সেবকের প্রতি।

Tuesday, November 3, 2015

ভারতে কেন মানুষ যায়? ঘুরতে, চিকিৎসা করতে, কেনাকাটা করতে?


যে কারণেই ভারতে যাক মানুষ। ভারত ঘুরার জন্য মন্দ নয়। যারা শুধু কলকাতা নিউ মার্কেট ঘুরে বিস্তর প্রশান্তিনিয়ে দেশে ফেরেন। তাদের জন্য আরো কিছুটা সুখ যোগ হতে পারে কলকাতার রবী ঠাকুরের জোড়াঁসাকো বাড়ি, মার্বেল প্যালেস, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, নন্দন, ন্যাশনাল লাইব্রেরী, আলিপুর চিড়িয়াখানা। নিউমার্কেটের আসে পাশে যারা থাকবেন। তাদের একটু হাঁটা অভ্যাস আর পকেটে ১০০ রুপী থাকলে এই জায়গাগুলো ঘুরে আসতেই পারেন । একটি দিনের কিছু সময় ব্যয় করেই ঘুরা হয়ে যাবে। বেশির ভাগ জায়গায় যেতে খরচ হবে বাস ভাড়া মাত্র ৬রুপি। খাবারের জন্য ভাল নন্দন আর যমুনা বাঙ্কোয়েট এর কাছে খালেকের খাবার দোকান।
ঢাকা থেকে মাত্র ৫০০/৬০০টাকায় চাইলে আপনি কলকাতায় পৌছে যেতে পারেন। সময়ও অর্থ সবই বাঁচবে। থাকার জন্য ১০০ ভাগ ফ্রি থেকে ২০০/৪০০ এবং ৬০০ থেকে এসি রুম শুরু ৫০০০/৭০০০হাজার রুপির রুম পাবেন।
থাকা/খাওয়া যাই হোক। ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আমার আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে বিনামূল্যের চিকিৎসা কিংবা স্বল্প ব্যয়ের চিকিৎসা।
সাবান, স্যাম্পু,গাড়ি, সংস্কৃতি বেচাবিক্রির পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়ে গড়ে উঠেছে ভারতের মেডিক্যাল পর্যটন। সারা দুনিয়া থেকে এখন মানুষ আসে ভারতে চিকিৎসা করাতে। সেই চিকিৎসায় অান্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু আন্তরিকতাটুকু পুরোটাই টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এই টাকায় কেনা আন্তরিকতা ছাড়াও ভারতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বিনামূল্যে কিংবা স্বল্পব্যয়ে চিকিৎসার। গেল বছর কয়েক আমি ভারতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে। যারা চিকিৎসাকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করে না। চিকিৎসা তাদের কাছে মানে সষ্ট্রার সেবা করার সুযোগ। সেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানুষের ভিড় থাকে।
আরো কিছু বেশিদিন বাঁচতে, কারো কাছ থেকে একটা নীল অপরাজিতা মুঠোবন্দি করবে বলে দুনিয়াব্যাপী বিত্তশালী মানুষদের গন্তব্য যখন ভারত , তখন এই মেডিক্যাল পর্যটন নিয়ে আপনি বিভ্রান্ত হবেন-ই। তাই চিকিৎসা সেবা নামক পণ্য কিনতে ভেবে কিনুন। এটা আপনার অধিকার । শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন।
যাদের একটু টাকা পয়সা কম আছে। তারা সব ঘুরে ফিরে কলকাতায় পিজি হাসপাতালে ঘুরে আসতে পারেন। ২রুপিতে যে এখনো চিকিৎসারে শুরু করা যায় তার স্বাদ নিতে পারবেন পিজিতে। আমি নিজেও নিয়েছি। ২রুপির টিকেটে মিনিট ২০/৩০ ডাক্তার আপনার সাথে কথা বলবে। তারপর কপাল ভাল মন্দ যাই হোক কিছু বিনামূল্যের ঔষধও পেতে পারেন।
এই বিনামূল্যের কিংবা স্বল্পমূল্যের চিকিৎসার অনেক সুযোগ বাংলাদেশেও আছে। ঢাকা মেডিক্যাল তার অন্যতম ‍উদাহরণ। এই হাসপাতাল থেকে রোগী ফের যাবার অভিজ্ঞতা খুবই কম। শুধুই গালাগালি করে একটি দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তারচেয়ে আপনার পরার্মশ,দান,অনুদানের ভাগ দিন এই দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে। সরকারী হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি অফিস থাকে সেখানে অনুদান গ্রহণ করা হয়। আপনার অনুদান নিশ্চয় অনেক সীমাবদ্ধতার জয় করতে সহযোগিতা করবে।
ডাক্তারা তো খারাপ ব্যবহার করে। কিন্তু আপনিও যদি একবার ধন্যবাদ না দিন তাদের । তবে কি করে তারা ভাল ব্যবহার করবে। কবে এদেশের মানুষ একবার ধন্যবাদ জানিয়েছি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের হাজার সীমাবদ্ধতার মাঝেও সেবা দেবার জন্য।
আমার মত ভাগ্যবান রোগী সবাই হয় না। ২রুপিতে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে কেউ হয়তবা দুই জোড়া নীলকন্ঠ/অপরাজিতা ফুলসহ আমার মত বলবে না নিয়ম করে চলো। সুস্থ হবেই। কে আমার মত ভাগ্যবান আর কে নয় তার হিসেব মিলিয়ে লাভ কি। ক্ষতি কি যদি আপনি শুরু করেন। আপনার পাশের যে মানুষগুলো চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত। তাদের জন্য আশেপাশের বিনামূল্যের/স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সহযোগিতা করুন। আপনি সেবা পাবার পর, অন্যের সেবা পাওয়ার পথ প্রস্থ করুন।
বিশ্বাস,আস্থা,ভালবাসা নিয়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে আপনিও গালাগালি ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কাজ করতে পারেন। আপনার কাজ করার পথ আপনাকেই সুগম করতে হবে। আমারও চাই প্রতিটি রোগীর বিছানায় সকালবেলায় দুটো অপরাজিতা ফুল নিয়ে কেউ একজন বলবে শুভ সকাল। পরাজিত হওয়া যাবে না, কোন ভাবেই না। ফুল কি অপরাজিত করে নাকি? রোগ শুধুই ঔষুধে সারে না। দু একটা অপরাজিতা ফুলও ভয়ানক কাজ করে সুস্থ হতে।
পাশাপাশি যদি দেওয়ালে লেখা দেখেন “সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ” রোগ অপরাজিত হবেই এই ভালবাসার কাছে।

Saturday, August 22, 2015

মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালের সামনে থেকে সিটি করপোরেশনের ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র অপসারণ প্রসঙ্গে।



বরাবর
মাননীয় মেয়র
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
৮১, গুলশান এভিনিউ, গুলশান
ঢাকা ১২১২ ।

বিষয় : মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালের সামনে থেকে সিটি করপোরেশনের ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্র অপসারণ প্রসঙ্গে।

জনাব
শুভেচ্ছা নিবেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে অবস্থিত মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার এবং ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য হাসপাতালটি স্বল্পব্যয়ের উন্নত মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশু সেবা প্রাপ্তি আস্থারস্থল। এছাড়াও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে জনগণকে উদ্ধুদ্ধকরণ, পরামর্শ, সহায়তা প্রদান, গবেষণা কার্যক্রম, সরকারী ও বেসরকারী চিকিৎসক, নার্স, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, মাঠকর্মীদের প্রশিণ প্রদান, সর্বোপরি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে এটি একটি জনাপ্রিয় নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রসিদ্ধ। 

এখানে প্রতিদিন গবেষণা,প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছাড়াও শত শত নারী, শিশু স্বাস্থ্যসেবা গ্রহনের জন্য আসেন। এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন  হাসপাতালটি প্রবেশ পথে বিশাল অংশ জুড়ে সিটি করপোরেশনের ময়লা আবর্জনা স্থানান্তরের কেন্দ্র গড়ে তোলা  হয়েছে। প্রবেশ পথটির একটি বড় অংশ বন্ধ করে সারাদিন ময়লা স্থানান্তরের কাজ চলে। ফলে মা ও শিশু স্বাস্থ্য যেমন যুক্তিপূর্ণ তেমনি জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনকারী গাড়ি প্রবেশ ও বাহিরে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এমতবস্থায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অতি দ্রুত ময়লা স্থানান্তর কেন্দ্রটি বন্ধ/স্থানান্তরের জন্য যথাযর্থ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করছি।

সীমিত সম্পদ আর অপ্রতুল জনবল মাধ্যমে আপনার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নাগারিক সেবা প্রদানের যে নিরলস পরিশ্রম করছে তার জন্য আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।


সৈয়দ সাইফুল আলম

অনুলিপি :
১.প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা
২.প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা
৩.স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

সংযুক্তি :  ময়লা অপসারণ কেন্দ্রের ছবি।

Tuesday, July 7, 2015

খেলার মাঠে, মেলা নয়।

“খেলার মাঠে মেলা নয়” এটি আইন। বিগত সময়ে এই আইনের ভিত্তিতে আদালত বেশকিছু মাঠে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ ও দিয়েছেন।

মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের জন্য প্রণীত আইন ২০০০ এ খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণী পরিবর্তনে বাধা-নিষেধ প্রসঙ্গে  বলা আছে,

৫৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না৷

কিন্তু শ্যামলী খেলার মাঠ যেন আইন আদালতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিছু। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে এখানে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন হাজারখানি বাতির আলোতে আলোকিত হয় মাঠ মেলা উপলক্ষ্যে। বিদ্যুৎ আসে সরকারী লাইন থেকে। পুরো দেশ কিছু মানুষের জন্য মগের মুল্লুক। তারা যা চায় তার জন্য আইন স্থবির হয়ে যায়।

আপনার আমার নিরবতায় এই মানুষগুলো আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা কন্ঠ ছাড়ি জোরে । তারা পালাতে বাধ্য হবেই।

মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের জন্য প্রণীত আইন ২০০০।

 ধারা ৫
৫৷ এই আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যতীত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না৷




মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০

মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০

মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০

Monday, July 6, 2015

প্রত্ন সম্পদ রক্ষায় মীর জাফরদের চিনে রাখুন।

লালবাগ কেল্লার দেওয়াল ভাঙ্গা ও পার্কিং তৈরি থামানো হয়েছে। এটি অবশ্যই জনগণের বিজয়। কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরই যে শুধুমাত্র এই অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিল তা নয়। এই অপকর্মের যারা প্রধান তারা অধিকাংশ দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও বিদেশ থেকে কয়েক ডজন ডিগ্রীধারী লোকরা। কেল্লার দেওয়া ভাঙ্গা ও পার্কিং তৈরি করার জন্য যে বিশেষজ্ঞ কমিটি মতামত দিয়েছেন । তার এখন গর্তে ঢুকে দায় এড়াতে চাচ্ছেন। তারা টকশোতে নীতি নৈতিকতার ঝড় তুলেন। আর ফেরার পথে কেজি ধরে বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ বিক্রি করে দেন। 

বিশেষজ্ঞ কমিটির ভদ্রলোদের তালিকাটা প্রকাশ করা দরকার। তারা সকলেই দাবী করেন তারাই দেশের একমাত্র বুদ্ধিজীবি। ইতিহাসবিদ, স্থপতি, প্রত্নতত্ত্ববিদদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির তালিকাটা জনসাধারনের কাছে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই ভাঙ্গা হয়েছে কেল্লার দেওয়াল ও গড়ে তুলা হয়েছিল পার্কিং।

আপনি আমি এই ভেবে নিশ্চিন্ত আছি, যে এই টকশোবাজ,বুদ্ধিজীবি, ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদরা আর যাই করুক দেশের ঐতিহ্য বিনিষ্ট হতে দিবে না।

কিন্তু তাদের অন্যরূপ আমরা দেখিনি। তাদের মত কোন কোন ভদ্রলোকরাই আমাদের প্রত্ন সম্পদ যুগে যুগে পাচারে ইন্ধন বা সমর্থন নিয়ে এসেছে । তাদের মত কোন বুদ্ধিজীবির বুদ্ধি বেচেই ফ্রান্সের গিমে যাদুঘর প্রত্ননির্দেশন সমর্থন জোগায়।

আর যদি কোন বুদ্ধিজীবি বলে “আমি তো কমিটিতে থাকতে চাই লোকজনের দাবীর কারণে থাকি। কিংবা আমি তো জানিই না কি করে হয়ে গেল” স্যার ভদ্রলোক আপনার দায় স্বীকার করে কেটে পড়ৃন। দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় আপনারই মূল মীরজাফর।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ভদ্রলোক বিশেষজ্ঞদের হয়তবা কোন বিচারই হবে না এই অপকর্মের জন্য। কারণ বিচারের জন্য যারা কন্ঠ ছাড়বে তারাই তো বুদ্ধিজীবি। এই বুদ্ধিজীবির তালিকাটা জনগণের সামনে থাকলে আর যাই হোক প্রতিরাতে টকশোতে যখন তাকে দেখবেন। তার স্মরণে একটু হলেও থুতু ফেলে দিতে পারেন আপনার টয়লেটে।

জনাব বিশেষজ্ঞ
ইনবক্সে আপনার গালি গ্রহণযোগ্য। আর আমি আপনার মতামতের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং আপনার ইনবক্স জনতার কাছে উমুক্ত করব না। তবে নামের তালিকা কিন্তু জনগণ চাইলেই দেখতে পারে। এটা জনগণের অধিকার। আপনাদের বুদ্ধি বেচার দিন শেষ হবে, একদিন।
শুভ কামনা।
ছবি ইন্টারনেট।